১১:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঢাকায় সকালজুড়ে কুয়াশা, দিনে কিছুটা উষ্ণতার আভাস

ঢাকায় সকালজুড়ে কুয়াশা, দিনে কিছুটা উষ্ণতার আভাস

রাজধানী ঢাকায় সকাল থেকে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে, ফলে দুপুরের দিকে আবহাওয়া তুলনামূলক উষ্ণ অনুভূত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য প্রকাশিত ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, দুপুর পর্যন্ত আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। এ সময় কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি কিংবা ঘন কুয়াশা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একইসঙ্গে উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯১ শতাংশ। গতকাল ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি।

পূর্বাভাসে আরও জানানো হয়েছে, আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ২৬ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ৪৩ মিনিটে। সারাদেশে আপাতত আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে এবং রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে শীতের অনুভূতি অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় হাড়কাঁপানো শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বুধবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি শীত মৌসুমে জেলার সর্বনিম্ন। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

ভোর থেকেই শহরের বিভিন্ন মোড়, বাসস্ট্যান্ড ও চায়ের দোকানের সামনে নিম্ন আয়ের মানুষদের আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরম করতে দেখা গেছে। দিনমজুর ও শ্রমজীবীরা জানান, প্রচণ্ড শীতের কারণে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে, তবুও জীবিকার তাগিদে বের হতে হচ্ছে।

কৃষক ও দিনমজুরদের ভাষ্য, ভোরে কাজের উদ্দেশ্যে বের হলেই হাত-পা অবশ হয়ে আসে। অনেক সময় কাজ না পেয়ে শীতের মধ্যেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। একই সঙ্গে শীতের প্রভাব পড়েছে স্বাস্থ্য খাতেও। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। চিকিৎসকদের মতে, শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের মধ্যে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ার প্রকোপ তুলনামূলক বেশি।

শীতের ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থীরাও। কুয়াশা ও হিমেল বাতাসের কারণে যানবাহনে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ায় অনেক শিক্ষার্থী হেঁটে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেনেও স্থবিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জামিনুর রহমান জানিয়েছেন, জেলার ওপর দিয়ে আগামী ১১ অথবা ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।

ট্যাগ

গেজেটের ধারাবাহিকতা মেনেই ব্যালট ছাপা হয়েছে: নির্বাচন কমিশন

ঢাকায় সকালজুড়ে কুয়াশা, দিনে কিছুটা উষ্ণতার আভাস

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:৩৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

রাজধানী ঢাকায় সকাল থেকে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে, ফলে দুপুরের দিকে আবহাওয়া তুলনামূলক উষ্ণ অনুভূত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য প্রকাশিত ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, দুপুর পর্যন্ত আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। এ সময় কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি কিংবা ঘন কুয়াশা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একইসঙ্গে উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯১ শতাংশ। গতকাল ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি।

পূর্বাভাসে আরও জানানো হয়েছে, আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ২৬ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ৪৩ মিনিটে। সারাদেশে আপাতত আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে এবং রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে শীতের অনুভূতি অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গায় হাড়কাঁপানো শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বুধবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি শীত মৌসুমে জেলার সর্বনিম্ন। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

ভোর থেকেই শহরের বিভিন্ন মোড়, বাসস্ট্যান্ড ও চায়ের দোকানের সামনে নিম্ন আয়ের মানুষদের আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরম করতে দেখা গেছে। দিনমজুর ও শ্রমজীবীরা জানান, প্রচণ্ড শীতের কারণে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে, তবুও জীবিকার তাগিদে বের হতে হচ্ছে।

কৃষক ও দিনমজুরদের ভাষ্য, ভোরে কাজের উদ্দেশ্যে বের হলেই হাত-পা অবশ হয়ে আসে। অনেক সময় কাজ না পেয়ে শীতের মধ্যেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। একই সঙ্গে শীতের প্রভাব পড়েছে স্বাস্থ্য খাতেও। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। চিকিৎসকদের মতে, শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের মধ্যে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ার প্রকোপ তুলনামূলক বেশি।

শীতের ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থীরাও। কুয়াশা ও হিমেল বাতাসের কারণে যানবাহনে চলাচল কঠিন হয়ে পড়ায় অনেক শিক্ষার্থী হেঁটে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেনেও স্থবিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জামিনুর রহমান জানিয়েছেন, জেলার ওপর দিয়ে আগামী ১১ অথবা ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।