১০:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ চট্টগ্রামের ভাপা পিঠা: মিষ্টি নয়, ঝালেই ঐতিহ্য

দক্ষিণ চট্টগ্রামের ভাপা পিঠা: মিষ্টি নয়, ঝালেই ঐতিহ্য

বাংলাদেশের দক্ষিণ চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভাপা পিঠা খাওয়ার একটি স্বতন্ত্র ও ঐতিহ্যবাহী ধারা রয়েছে, যা দেশের অন্য অঞ্চলের প্রচলিত ভাপা পিঠার ধারণা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। সাধারণত ভাপা পিঠা বলতে গুড় ও নারিকেল দিয়ে তৈরি মিষ্টি পিঠাকে বোঝানো হলেও, দক্ষিণ চট্টগ্রামে এই পিঠা বানানো হয় শুধুমাত্র চালের গুঁড়া ও লবণ দিয়ে। এখানে মিষ্টির কোনো ব্যবহার নেই।

স্থানীয়ভাবে ভাপে সেদ্ধ করার পর পিঠাগুলো ঠান্ডা হতে দেওয়া হয়। এরপর সেগুলো আবার কয়লার আগুনে দিয়ে লাল লাল করে পোড়ানো হয়। এই পোড়ানো ভাপা পিঠায় কামড় দিলে কড়মড় শব্দ হয়, যা এই খাবারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এই ভিন্নধর্মী প্রস্তুত প্রণালীই দক্ষিণ চট্টগ্রামের ভাপা পিঠাকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

এই পিঠার সাথে পরিবেশন করা হয় ঝালঝাল রাতাকুরার ঝোল। কাঁচামরিচ বেটে বা ব্লেন্ড করে তৈরি এই ঝোল সাধারণত নতুন আলু দিয়ে রান্না করা হয়। ঝোলের তীব্র ঝাল এবং কয়লার আগুনে পোড়া কড়মড়ে পিঠার সংমিশ্রণ শীতের দিনে এক অনন্য স্বাদ অভিজ্ঞতা তৈরি করে।

দক্ষিণ চট্টগ্রাম অঞ্চলে যাদের নিজস্ব বাড়ি বা শ্বশুরবাড়ি রয়েছে, তাদের কাছে এই খাবার শীতকালীন পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ। শীতের দিনে আত্মীয়স্বজন একত্র হলে মাটির চুলার পাশে বসে গরম গরম পিঠা খাওয়ার দৃশ্য এখানে খুবই পরিচিত।

এলাকার বাইরের মানুষের জন্য এই খাবার অনেক সময় শারীরিকভাবে একটু কষ্টকর হতে পারে। অতিরিক্ত ঝাল ও পোড়া পিঠার কারণে পেটে অস্বস্তি দেখা দিলেও, অধিকাংশ মানুষের কাছেই এই ভিন্ন স্বাদের অভিজ্ঞতা স্মরণীয় হয়ে থাকে।

খাবারটি সাধারণত মাটির চুলার পাশেই, গরম গরম পরিবেশন করা হয়। একজন পিঠা খাচ্ছেন, আরেকজন চুলা থেকে সদ্য পোড়া পিঠা তুলে দিচ্ছেন—এই ঘরোয়া পরিবেশই দক্ষিণ চট্টগ্রামের ভাপা পিঠা সংস্কৃতিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে।

ট্যাগ

দক্ষিণ চট্টগ্রামের ভাপা পিঠা: মিষ্টি নয়, ঝালেই ঐতিহ্য

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:৫৮:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের দক্ষিণ চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভাপা পিঠা খাওয়ার একটি স্বতন্ত্র ও ঐতিহ্যবাহী ধারা রয়েছে, যা দেশের অন্য অঞ্চলের প্রচলিত ভাপা পিঠার ধারণা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। সাধারণত ভাপা পিঠা বলতে গুড় ও নারিকেল দিয়ে তৈরি মিষ্টি পিঠাকে বোঝানো হলেও, দক্ষিণ চট্টগ্রামে এই পিঠা বানানো হয় শুধুমাত্র চালের গুঁড়া ও লবণ দিয়ে। এখানে মিষ্টির কোনো ব্যবহার নেই।

স্থানীয়ভাবে ভাপে সেদ্ধ করার পর পিঠাগুলো ঠান্ডা হতে দেওয়া হয়। এরপর সেগুলো আবার কয়লার আগুনে দিয়ে লাল লাল করে পোড়ানো হয়। এই পোড়ানো ভাপা পিঠায় কামড় দিলে কড়মড় শব্দ হয়, যা এই খাবারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এই ভিন্নধর্মী প্রস্তুত প্রণালীই দক্ষিণ চট্টগ্রামের ভাপা পিঠাকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

এই পিঠার সাথে পরিবেশন করা হয় ঝালঝাল রাতাকুরার ঝোল। কাঁচামরিচ বেটে বা ব্লেন্ড করে তৈরি এই ঝোল সাধারণত নতুন আলু দিয়ে রান্না করা হয়। ঝোলের তীব্র ঝাল এবং কয়লার আগুনে পোড়া কড়মড়ে পিঠার সংমিশ্রণ শীতের দিনে এক অনন্য স্বাদ অভিজ্ঞতা তৈরি করে।

দক্ষিণ চট্টগ্রাম অঞ্চলে যাদের নিজস্ব বাড়ি বা শ্বশুরবাড়ি রয়েছে, তাদের কাছে এই খাবার শীতকালীন পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ। শীতের দিনে আত্মীয়স্বজন একত্র হলে মাটির চুলার পাশে বসে গরম গরম পিঠা খাওয়ার দৃশ্য এখানে খুবই পরিচিত।

এলাকার বাইরের মানুষের জন্য এই খাবার অনেক সময় শারীরিকভাবে একটু কষ্টকর হতে পারে। অতিরিক্ত ঝাল ও পোড়া পিঠার কারণে পেটে অস্বস্তি দেখা দিলেও, অধিকাংশ মানুষের কাছেই এই ভিন্ন স্বাদের অভিজ্ঞতা স্মরণীয় হয়ে থাকে।

খাবারটি সাধারণত মাটির চুলার পাশেই, গরম গরম পরিবেশন করা হয়। একজন পিঠা খাচ্ছেন, আরেকজন চুলা থেকে সদ্য পোড়া পিঠা তুলে দিচ্ছেন—এই ঘরোয়া পরিবেশই দক্ষিণ চট্টগ্রামের ভাপা পিঠা সংস্কৃতিকে আরও বিশেষ করে তুলেছে।