
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েক ডজন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সত্তা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের লক্ষ্যে একটি ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। এই ঘোষণার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ৩৫টি জাতিসংঘ-বহির্ভূত আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং ৩১টি জাতিসংঘ-অনুমোদিত সংস্থা থেকে নিজেদের সম্পৃক্ততা প্রত্যাহার করবে বলে জানানো হয়েছে। হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম মার্কিন জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব আন্তর্জাতিক সংস্থা চরম জলবায়ু নীতি ও বিশ্বায়নের এজেন্ডা প্রচার করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক স্বার্থ ও নীতিগত স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করে। এজন্য এসব সংস্থার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ ও অর্থায়ন অব্যাহত রাখা যুক্তিযুক্ত নয় বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা সীমিত করার একটি বৃহত্তর প্রবণতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার জন্য মার্কিন তহবিল উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার উদ্যোগ, ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা UNRWA-এর প্রতি সমর্থন স্থগিত, UNESCO থেকে প্রত্যাহার, পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বৈশ্বিক জলবায়ু নীতি, স্বাস্থ্য সহযোগিতা, মানবিক সহায়তা এবং বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা আরও সংকুচিত হতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর অর্থায়ন ও কার্যক্রমেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সমর্থকরা একে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির বাস্তবায়ন হিসেবে দেখলেও, সমালোচকরা বলছেন—এতে বৈশ্বিক সমস্যাগুলোর সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
সমাচার বিশ্ব নিউজ ডেক্স 


















