
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের কয়েক দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন সিনেট একটি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে, যার মাধ্যমে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করা হবে। সিনেট সদস্যরা জানিয়েছেন, নির্বাহী শাখার একতরফা সামরিক সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন যে ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল মজুদ দীর্ঘ সময়ের জন্য ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত। ট্রাম্পের এই বক্তব্য লাতিন আমেরিকায় নতুন করে মার্কিন হস্তক্ষেপের আশঙ্কা বাড়িয়ে তোলে এবং কংগ্রেসে বিরোধী প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।
সিনেটের প্রস্তাবটি মূলত প্রেসিডেন্টের যুদ্ধক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে রাখার সাংবিধানিক নীতির ওপর জোর দেয়। এতে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যেকোনো নতুন সামরিক অভিযানের আগে কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন প্রয়োজন হবে। আইনপ্রণেতাদের মতে, বিদেশি সংঘাতে জড়ানোর ক্ষেত্রে কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
এদিকে ইউরোপ থেকেও ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে সমালোচনা জোরালো হয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মন্তব্য করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র “ধীরে ধীরে তার মিত্রদের ত্যাগ করছে” এবং “আন্তর্জাতিক নিয়ম উপেক্ষা করছে”। তিনি ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক উত্তেজনাকে একটি “নব্য-ঔপনিবেশিক আগ্রাসন” হিসেবে বর্ণনা করেন, যা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে বলে মত দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে এই সিনেট ভোট শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেনি, বরং যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতি ও আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব নিয়েও নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। একই সঙ্গে এটি ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে কংগ্রেসের অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে।
সমাচার বিশ্ব নিউজ ডেক্স 


















