১১:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু করতে ঐক্যের আহ্বান তারেক রহমানের

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু করতে ঐক্যের আহ্বান তারেক রহমানের

যেকোনো মূল্যে দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরায় চালু করার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। হিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতি দেশ ও জাতির জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে—এর উদাহরণ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। মতপার্থক্য যেন মতবিভেদে রূপ না নেয় এবং বিভাজনের কারণ না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে আর কোনো প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতি দেখতে চান না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক, তবে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিভেদ দূর করে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখাই সময়ের দাবি।

তারেক রহমান বলেন, অতীতে বিভেদের রাজনীতি জাতিকে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তা সবার জানা। তাই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই রাজনৈতিক কর্মীদের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত। তিনি বলেন, “আমাদের সমস্যা ছিল, সমস্যা আছে; তবে আমরা ৫ আগস্টের আগের অবস্থায় ফিরে যেতে চাই না।”

নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, তিনি একজন রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে জনগণের কাছেই থাকতে চান। আগামী ২২ তারিখ থেকে দলের নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে জনগণের কাছে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।

৪ কোটি পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’

দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের জন্য একটি যুগান্তকারী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ঘোষণা দেন তারেক রহমান। তিনি জানান, এই উদ্যোগের মূল কেন্দ্রে থাকবেন পরিবারের গৃহিণীরা। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের গৃহিণী ৫ থেকে ৭ বছর আর্থিক বা খাদ্য সহায়তা পাবেন।

তিনি বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে নারীদের হাতে অর্থ থাকলে তা মূলত স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগে ব্যয় হয়, যা পরিবার ও স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে। এই কর্মসূচি সর্বজনীন হবে, যাতে দলীয় পরিচয় বা শ্রেণিবিভাগের কারণে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা বৈষম্যের সুযোগ না থাকে।

স্বাস্থ্যখাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান

স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে উন্নত বিশ্বের আদলে ‘প্রিভেনশন’ বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়ার কথা জানান বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, মানুষ অসুস্থ হওয়ার আগেই সচেতন করতে হবে। এ লক্ষ্যে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

এই স্বাস্থ্যকর্মীদের ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ নারী হবেন বলে জানান তিনি। তারা ঘরে ঘরে গিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবেন। এর ফলে একদিকে জনস্বাস্থ্যের উন্নতি, অন্যদিকে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, গঠনমূলক সমালোচনা করুন, যাতে রাজনৈতিক দলগুলো দেশের জনগণের বাস্তব সমস্যা সমাধানে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

ট্যাগ

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু করতে ঐক্যের আহ্বান তারেক রহমানের

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:১৩:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

যেকোনো মূল্যে দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরায় চালু করার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। হিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতি দেশ ও জাতির জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে—এর উদাহরণ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। মতপার্থক্য যেন মতবিভেদে রূপ না নেয় এবং বিভাজনের কারণ না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে আর কোনো প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতি দেখতে চান না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক, তবে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিভেদ দূর করে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখাই সময়ের দাবি।

তারেক রহমান বলেন, অতীতে বিভেদের রাজনীতি জাতিকে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তা সবার জানা। তাই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই রাজনৈতিক কর্মীদের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত। তিনি বলেন, “আমাদের সমস্যা ছিল, সমস্যা আছে; তবে আমরা ৫ আগস্টের আগের অবস্থায় ফিরে যেতে চাই না।”

নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, তিনি একজন রাজনৈতিক দলের কর্মী হিসেবে জনগণের কাছেই থাকতে চান। আগামী ২২ তারিখ থেকে দলের নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে জনগণের কাছে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।

৪ কোটি পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’

দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের জন্য একটি যুগান্তকারী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ঘোষণা দেন তারেক রহমান। তিনি জানান, এই উদ্যোগের মূল কেন্দ্রে থাকবেন পরিবারের গৃহিণীরা। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের গৃহিণী ৫ থেকে ৭ বছর আর্থিক বা খাদ্য সহায়তা পাবেন।

তিনি বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে নারীদের হাতে অর্থ থাকলে তা মূলত স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগে ব্যয় হয়, যা পরিবার ও স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে। এই কর্মসূচি সর্বজনীন হবে, যাতে দলীয় পরিচয় বা শ্রেণিবিভাগের কারণে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা বৈষম্যের সুযোগ না থাকে।

স্বাস্থ্যখাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান

স্বাস্থ্যখাতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে উন্নত বিশ্বের আদলে ‘প্রিভেনশন’ বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়ার কথা জানান বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, মানুষ অসুস্থ হওয়ার আগেই সচেতন করতে হবে। এ লক্ষ্যে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

এই স্বাস্থ্যকর্মীদের ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ নারী হবেন বলে জানান তিনি। তারা ঘরে ঘরে গিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবেন। এর ফলে একদিকে জনস্বাস্থ্যের উন্নতি, অন্যদিকে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, গঠনমূলক সমালোচনা করুন, যাতে রাজনৈতিক দলগুলো দেশের জনগণের বাস্তব সমস্যা সমাধানে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।