
আল-মুমিত (المميت) আল্লাহ তায়ালার একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণবাচক নাম, যার অর্থ ‘মৃত্যু দানকারী’ বা ‘নশ্বরতায় উপনীতকারী’। এই নামটি আল্লাহর সর্বময় ক্ষমতা ও জীবন-মৃত্যুর উপর তাঁর নিরঙ্কুশ কর্তৃত্বকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে। ইসলামি চিন্তাধারায় আল-মুমিত নামটি মানুষের জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব ও দুনিয়ার অস্থায়ী বাস্তবতাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত।
যদিও কুরআনে আল-মুমিত নামটি সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, তবে এর অর্থবাহী বহু আয়াতে আল্লাহর জীবন দান ও মৃত্যু ঘটানোর ক্ষমতার কথা স্পষ্টভাবে এসেছে। কুরআন অনুযায়ী, জীবন যেমন মানুষের হাতে নয়, তেমনি মৃত্যুও কোনো দৈব বা স্বাভাবিক দুর্ঘটনা মাত্র নয়; বরং সবকিছুই আল্লাহর নির্ধারিত সিদ্ধান্ত ও হিকমতের অংশ।
ইসলামি বিশ্লেষকদের মতে, আল-মুমিত নামটি মানুষের মাঝে দায়িত্ববোধ তৈরি করে। মানুষ যখন উপলব্ধি করে যে মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী এবং তার সময় নির্ধারণ একমাত্র আল্লাহর হাতে, তখন সে দুনিয়ার মোহ থেকে বেরিয়ে ন্যায়পরায়ণতা, সৎকর্ম ও আত্মসংযমের দিকে ঝুঁকে পড়ে। এই নাম মানুষকে অহংকার ও ক্ষমতার ভ্রান্ত ধারণা থেকে দূরে রাখে।
আল-মুমিত নামটি আল্লাহর আরেকটি গুণবাচক নাম আল-মুহয়ি (জীবনদানকারী)-এর সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। আল-মুহয়ি জীবনের সূচনার প্রতীক, আর আল-মুমিত জীবনের সমাপ্তির। এই দুই নাম একত্রে জীবনের পূর্ণ চক্রকে তুলে ধরে এবং প্রমাণ করে যে শুরু ও শেষ—উভয়ই আল্লাহর ইচ্ছাধীন।
সুফি ও আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যায় আল-মুমিত নামটির আরও গভীর তাৎপর্য রয়েছে। সুফিগণ ‘মৃত্যুর আগে মৃত্যু বরণ’-এর ধারণার মাধ্যমে এই নামকে ব্যাখ্যা করেন। এর অর্থ হলো, মানুষের উচিত জীবিত অবস্থাতেই নিজের নফস, অহংকার ও জাগতিক আসক্তিকে দমন করা, যাতে আত্মা পরিশুদ্ধ হয়ে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারে।
কুরআনের সূরা আল-হাদিদ (৫৭:২)-এ আল্লাহ তায়ালা বলেন,
“তাঁরই রাজত্ব আসমানসমূহ ও যমীনের; তিনি জীবন দেন এবং মৃত্যু ঘটান, আর তিনি সকল কিছুর উপর সর্বশক্তিমান।”
এই আয়াত আল-মুমিত ও আল-মুহয়ি নামের মৌলিক তাৎপর্যকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে এবং মানুষকে জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য অনুধাবনের আহ্বান জানায়।
সমাচার বিশ্ব নিউজ ডেক্স 



















