
ভোলার মনপুরা উপজেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার ৩ নম্বর উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও নৌবাহিনী মোতায়েন করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নির্বাচনী গণসংযোগের সময় বিএনপি ও জামায়াতের নেতা–কর্মীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে দুই দলের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়ন সেক্রেটারি আব্দুর রহিম অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে ভোট চাইতে গেলে বিএনপির নেতা–কর্মীরা বাধা দেন। পরে সংঘর্ষে জামায়াতের অন্তত পাঁচ থেকে ছয়জন কর্মী আহত হন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
অন্যদিকে মনপুরা উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি কামাল উদ্দিন দাবি করেন, ভোট চাওয়ার নামে জামায়াতের নেতা–কর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে বিএনপির কর্মীদের ওপর হামলা চালান। এতে বিএনপির পাঁচ নেতা–কর্মী আহত হন। উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম ফরাজি বলেন, একটি বাড়িতে ভোট চাইতে যাওয়াকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ ফরিদ উদ্দিন বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং নৌবাহিনীও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেছে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ভোলার দৌলতখান উপজেলায় জামায়াতের নারী কর্মীদের হেনস্তা, গণসংযোগে বাধা ও ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার দৌলতখান উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উপজেলা মহিলা জামায়াতের সেক্রেটারি মিনারা বেগম অভিযোগ করেন, দৌলতখান পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ চলাকালে বিএনপির কর্মীরা নারী কর্মীদের অশ্লীল ভাষায় গালাগাল, হেনস্তা এবং প্রচারণায় বাধা দেন। একই সঙ্গে সাধারণ ভোটারদের ভয় দেখানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের কাছে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—নারী হেনস্তার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা, সব প্রার্থীর জন্য নিরাপদ ও সমান প্রচারণার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
এ ঘটনায় ভোলাজুড়ে নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সমাচার বিশ্ব নিউজ ডেক্স 



















