
ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিকে শক্তিশালী করতে মহাকাশে ডেটা সেন্টার গড়ার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নিজের দুই প্রতিষ্ঠান SpaceX ও xAI-কে একীভূত করেছেন ধনকুবের উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। মঙ্গলবার SpaceX-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এই একীভূতকরণের ঘোষণা দেন।
টেসলার সিইও ইলন মাস্ক বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও শীতলকরণ ব্যবস্থার প্রয়োজন হবে, যা পৃথিবীতে টেকসইভাবে বাস্তবায়ন করা কঠিন। এতে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও পরিবেশের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার মতে, সূর্যের অফুরন্ত শক্তি কাজে লাগাতে সক্ষম মহাকাশ-ভিত্তিক ডেটা সেন্টারই এআই-এর দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।
মাস্ক লিখেছেন, “দীর্ঘমেয়াদে মহাকাশ-ভিত্তিক এআই ছাড়া বড় পরিসরে এআই সম্প্রসারণ সম্ভব নয়। সূর্যের শক্তির মাত্র এক মিলিয়ন ভাগের এক ভাগ ব্যবহার করলেও তা আমাদের বর্তমান সভ্যতার ব্যবহৃত শক্তির তুলনায় প্রায় দশ লক্ষ গুণ বেশি।” তিনি আরও বলেন, “এই বিপুল সম্পদ-নির্ভর কার্যক্রমকে এমন জায়গায় স্থানান্তর করাই যুক্তিসংগত, যেখানে শক্তি ও জায়গার কোনো সীমাবদ্ধতা নেই।” তার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যেই এআই কম্পিউটিংয়ের সবচেয়ে কম খরচের জায়গা হয়ে উঠবে মহাকাশ।
SpaceX ও xAI-এর এই একীভূতকরণে মাস্কের মহাকাশ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সংক্রান্ত একাধিক প্রকল্প একই ছাতার নিচে চলে এলো। SpaceX বর্তমানে ফ্যালকন ও স্টারশিপ রকেট কর্মসূচি পরিচালনা করছে, আর xAI পরিচিত এআই-চালিত Grok চ্যাটবট তৈরির জন্য। গত বছর xAI সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X (সাবেক টুইটার)-কেও অধিগ্রহণ করে।
উভয় প্রতিষ্ঠানেরই নাসা ও মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সহ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে বড় অঙ্কের চুক্তি রয়েছে। বিশেষ করে SpaceX-এর Starshield ইউনিট সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
তবে এআই-এর শক্তি সংকটের সমাধানে মহাকাশের দিকে নজর দেওয়া একমাত্র মাস্কই নন। জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিন ও গুগলের প্রজেক্ট সানক্যাচার-ও সৌরশক্তি-চালিত মহাকাশ-ভিত্তিক ডেটা সেন্টার নিয়ে কাজ করছে।
মাস্ক জানান, SpaceX-এর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এক মিলিয়ন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে স্টারশিপ রকেট কর্মসূচিকে এমনভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে প্রতি ঘণ্টায় একটি করে উৎক্ষেপণ সম্ভব হয় এবং প্রতিটি ফ্লাইটে ২০০ টন পর্যন্ত পেলোড বহন করা যায়।
এ ছাড়া SpaceX-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান Starlink শিগগিরই বড় ধরনের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। পরবর্তী প্রজন্মের V3 স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে প্রতিটি স্যাটেলাইট বর্তমান ফ্যালকন রকেটে উৎক্ষেপিত V2 স্টারলিংক স্যাটেলাইটের তুলনায় ২০ গুণেরও বেশি সক্ষমতা পুরো নেটওয়ার্কে যোগ করবে বলে জানিয়েছেন ইলন মাস্ক।
সমাচার বিশ্ব নিউজ ডেক্স 



















