
ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ের একটি অবৈধ কয়লা খনিতে শক্তিশালী বিস্ফোরণে অন্তত ১৮ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন শ্রমিক খনির ভেতরে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন। দুর্গম এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় উদ্ধার কাজে বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকারী দলকে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে মেঘালয়ের পূর্ব জৈন্তিয়া পাহাড় জেলার থাংস্কু এলাকার মিনসিঙ্গাটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, খনিটি অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছিল এবং বিস্ফোরণের সময় সেখানে একাধিক শ্রমিক কাজ করছিলেন। নিহতদের অধিকাংশই প্রতিবেশী রাজ্য আসামের শ্রমিক বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পূর্ব জৈন্তিয়া পাহাড় জেলার পুলিশ সুপার বিকাশ কুমার জানান, “এখন পর্যন্ত ১৮টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। খনির ভেতরে ঠিক কতজন শ্রমিক ছিলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই। ফলে আরও কেউ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে খনিটি অবৈধ বলে মনে হচ্ছে এবং বিস্ফোরণের সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরণের পর খনি থেকে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ঘটনাস্থলে শ্রমিকদের আতঙ্কিত অবস্থায় ছুটোছুটি করতে দেখা যায়। বিস্ফোরণে অন্তত একজন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন, যাকে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং পরে শিলং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক্স (সাবেক টুইটার) বার্তায় তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল (পিএমএনআরএফ) থেকে নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ রুপি এবং আহতদের ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেন।
মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমাও এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “কয়লা খনি শ্রমিকদের জন্য বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা না করা হলে অবৈধ খনন পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন।” এ দুর্ঘটনার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলে পরিস্থিতির খোঁজ নেন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, মেঘালয়সহ উত্তর–পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ‘র্যাট–হোল মাইনিং’ নামে পরিচিত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করা হয়। এ পদ্ধতিতে মাত্র ৩–৪ ফুট উঁচু সরু সুড়ঙ্গ খুঁড়ে শ্রমিকরা ভেতরে ঢুকে কয়লা উত্তোলন করেন। পরিবেশগত ক্ষতি ও প্রাণঘাতী ঝুঁকির কারণে জাতীয় সবুজ ট্রাইব্যুনাল (এনজিটি) ২০১৪ সালে এই পদ্ধতিতে খনন নিষিদ্ধ করলেও দুর্গম এলাকায় এখনো অবৈধভাবে কয়লা উত্তোলন চলছে।
এর আগে ২০১৮ সালেও মেঘালয়ের একটি অবৈধ কয়লা খনিতে আটকা পড়ে ১৫ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। বারবার এমন দুর্ঘটনার পরও অবৈধ খনন বন্ধ না হওয়ায় প্রশাসনের নজরদারি ও দায়িত্বশীলতার প্রশ্ন নতুন করে সামনে এসেছে।
সমাচার বিশ্ব নিউজ ডেক্স 



















