
কুখ্যাত ধনকুবের ও দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিন ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন গুপ্তচর ছিলেন—এমন বিস্ফোরক দাবি উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর একটি গোপন নথিতে। ২০২০ সালের ওই নথিটি সম্প্রতি প্রকাশিত ‘এপস্টিন ফাইলস’-এর অংশ হিসেবে জনসমক্ষে এসেছে।
এফবিআই নথিটি একটি গোপনীয় মানবীয় সূত্র (Confidential Human Source – CHS)-এর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়। নথিতে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় দেশীয় ও বিদেশি অনভিপ্রেত প্রভাব নিয়ে তথ্য থাকলেও, সেখানে এপস্টিনের আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা তৎপরতা সম্পর্কিত বিস্তৃত বিবরণ উঠে আসে।
নথি অনুযায়ী, এপস্টিন ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী এহুদ বারাকের অধীনে গুপ্তচর হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। সূত্রটি দাবি করেছে, বারাকের বিভিন্ন ব্যক্তিগত আলাপচারিতা শোনার পর তার দৃঢ় বিশ্বাস জন্মায় যে এপস্টিন মূলত মোসাদের একজন এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন।
সূত্রটি আরও জানায়, এপস্টিন ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক অ্যালান ডারশোভিটজ–এর মধ্যে হওয়া একাধিক ফোনালাপ সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন এবং এসব কথোপকথনের বিস্তারিত নোট রাখা হতো। অভিযোগ রয়েছে, ওই তথ্যগুলো পরবর্তীতে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কাছে পাঠানো হতো।
এফবিআইয়ের নথিতে দাবি করা হয়, ডারশোভিটজ একাধিকবার বলেছেন যে, “এপস্টিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্র দেশগুলোর গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।” একই সঙ্গে সূত্রটি দাবি করেছে, ডারশোভিটজ নিজেও মোসাদের সুবিধাভোগী ছিলেন এবং তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখতেন।
উল্লেখ্য, অ্যালান ডারশোভিটজ একজন অত্যন্ত বিতর্কিত আইনজীবী ও শিক্ষাবিদ। তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের বন্ধু ও উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি তিনি জেফরি এপস্টিন, হার্ভে ওয়াইনস্টাইন ও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো বিতর্কিত ব্যক্তিদের আইনি লড়াইয়ে আসামিপক্ষের হয়ে কাজ করেছেন।
নথিতে আরও বলা হয়েছে, এপস্টিন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, সাবেক মন্ত্রী লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসনসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক ব্যক্তির সঙ্গে আর্থিক ও পরামর্শক সম্পর্ক স্থাপনে ভূমিকা রাখেন। এমনকি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান প্যালান্টিয়ার নিয়েও এপস্টিন এহুদ বারাককে পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়া, এপস্টিনের সাবেক জনসংযোগ কর্মকর্তা মাশা বুচার প্রতিষ্ঠিত ‘ডে ওয়ান ভেঞ্চারস’ নামের একটি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম সিলিকন ভ্যালিতে প্রযুক্তি চুরির উদ্দেশ্যে কাজ করছিল বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছে ওই সূত্র।
বিশ্লেষকদের মতে, এপস্টিনের কর্মকাণ্ড কেবল যৌন অপরাধ বা আর্থিক কেলেঙ্কারির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা, প্রভাবশালী রাজনীতিক ও কূটনৈতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিল। অনেকের ধারণা, ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের ব্ল্যাকমেল করার উদ্দেশ্যেই এপস্টিনকে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।
এফবিআই নথিতে উত্থাপিত এসব অভিযোগ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। তবে নথি প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—জেফরি এপস্টিন আসলে কতটা বড় একটি গুপ্তচর নেটওয়ার্কের অংশ ছিলেন?
সমাচার বিশ্ব নিউজ ডেক্স 



















