
রাশিয়ার কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারির মুখে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামের ওপর আরও বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা রসকমনাডজর। সংস্থাটির অভিযোগ, আগের আইন লঙ্ঘন সংশোধনে ব্যর্থ হওয়ায় টেলিগ্রামসহ কয়েকটি বিদেশভিত্তিক মেসেজিং অ্যাপের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
রসকমনাডজর জানিয়েছে, গত বছরের আগস্ট থেকেই টেলিগ্রামের ভয়েস ও ভিডিও কল সীমিত করা হয়। একই সময়ে মেটার মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপের বিরুদ্ধেও অনুরূপ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ডিসেম্বরে অ্যাপলের ভিডিও কলিং অ্যাপ ফেসটাইম সম্পূর্ণভাবে ব্লক করে রাশিয়া।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানায়, “রুশ আইন মানা হচ্ছে না, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত নয় এবং প্রতারণা, অপরাধ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না।” এ কারণে অনুমোদিত সংস্থাগুলোর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আরও বিধিনিষেধ আরোপ অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা তাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, টেলিগ্রাম রুশ আইনের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে—এ তথ্য তার জানা আছে। তিনি বলেন, “যেসব আইন মানার কথা, কোম্পানিটি তা বাস্তবায়ন করছে না—এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”
তবে টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, চাপ যতই আসুক না কেন, টেলিগ্রাম বাকস্বাধীনতা ও ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষায় অটল থাকবে। নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে তিনি অভিযোগ করেন, রুশ নাগরিকদের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত বিকল্প প্ল্যাটফর্ম ম্যাক্স (MAX) ব্যবহারে বাধ্য করতেই টেলিগ্রামের ওপর কড়াকড়ি বাড়ানো হচ্ছে।
এদিকে মস্কোর বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। রয়টার্সকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় অনেকেই জানান, সম্প্রতি টেলিগ্রাম আগের তুলনায় ধীরগতিতে কাজ করছে। একজন মিডিয়া পেশাজীবী বলেন, তার ব্যবসা টেলিগ্রামের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল, ফলে এ পরিস্থিতি ক্ষতিকর হতে পারে। আরেক ব্যবহারকারী জানান, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হওয়ায় অন্য প্ল্যাটফর্মে যাওয়া তার জন্য কঠিন।
রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা রিয়া জানিয়েছে, রুশ আইনে অপসারণযোগ্য তথ্য না সরানোর অভিযোগে টেলিগ্রামের বিরুদ্ধে আসন্ন আটটি আদালত শুনানিতে সর্বোচ্চ ৬ কোটি ৪০ লাখ রুবল (প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজার ডলার) জরিমানার ঝুঁকি রয়েছে। এ ছাড়া আগের অনাদায়ী জরিমানার আরও ৯০ লাখ রুবল আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, রাশিয়া এর আগেও বিদেশভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ২০১৮ সালে টেলিগ্রাম ব্লক করার চেষ্টা ব্যর্থ হলেও ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং গুগলের মালিকানাধীন ইউটিউবেও প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে টেলিগ্রামের ভবিষ্যৎ নিয়ে রুশ ব্যবহারকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
সমাচার বিশ্ব নিউজ ডেক্স 



















