
বিগত কোনো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হননি—এমন দেড় শতাধিক নতুন মুখ নিয়ে গঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। এবারের নির্বাচনে সরকার গঠন করতে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মধ্যেই প্রথমবার নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবারই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে জয় পেয়েছেন এবং ইতোমধ্যে আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।
অন্যদিকে বিরোধী দলে যেতে যাওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর আমির শফিকুর রহমান-ও প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। জামায়াত থেকে নির্বাচিত ৬৮ জনের মধ্যে ৬৫ জনই নতুন মুখ।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিএনপি থেকে নির্বাচিতদের মধ্যে প্রায় ৭১ জন এবার প্রথমবার সংসদে যাচ্ছেন। বিএনপি-জোট মোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করেছে। এর বাইরে আরও কয়েকটি দলে সম্পূর্ণ নতুন প্রতিনিধিত্ব দেখা যাচ্ছে। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর আত্মপ্রকাশ করা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে ৬ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে ২ জন, গণসংহতি আন্দোলন থেকে ১ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে ১ জন এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (এনডিএম) থেকে ১ জন প্রার্থী প্রথমবারের মতো সংসদে প্রবেশ করছেন।
তবে এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ নির্বাচনের আগে দল থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেন এবং ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়ী হন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি সংসদে দেড় শতাধিক নতুন সদস্য থাকা ইতিবাচক ইঙ্গিত। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, অতীতে অনেক সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ছিল। নতুনদের আগমন সেই দুর্নাম কাটানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তারেক রহমানসহ নবনির্বাচিতরা সংসদের ভাবমূর্তি পুনর্গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
নতুন সংসদ সদস্যরাও আশাবাদী। ফরিদপুর-২ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, নতুন বাংলাদেশ গঠনে সংসদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন পেশাগত ও সামাজিক পটভূমি থেকে আসা সদস্যরা নিজ নিজ দক্ষতা কাজে লাগিয়ে দেশ পুনর্গঠনে অবদান রাখতে চান।
লক্ষীপুর-1 আসন থেকে নির্বাচিত শাহদাত হোসেন সেলিম বলেন, দীর্ঘ সময় পর শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট হয়েছে এবং জনগণ উৎসবমুখরভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। তিনি এলাকার উন্নয়ন ও জাতীয় স্বার্থে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এছাড়া গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাহমুদুল হোসেন ওলিউল্লাহ-সহ একাধিক নতুন মুখ এবার সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন।
সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বড় একটি নতুন প্রজন্ম। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পরিবর্তন দেশের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া, জবাবদিহিতা ও নীতিনির্ধারণে নতুন গতিশীলতা আনতে পারে—যদি নতুনরা ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেন।
সমাচার বিশ্ব নিউজ ডেক্স 



















