০২:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এআই কনটেন্ট ইস্যুতে X–Meta–TikTok-এর বিরুদ্ধে স্পেনের তদন্ত

এআই কনটেন্ট ইস্যুতে X–Meta–TikTok-এর বিরুদ্ধে স্পেনের তদন্ত

এআই-তৈরি শিশু যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত কনটেন্ট ছড়ানোর অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগ  মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম X, Meta ও TikTok–এর বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে স্পেন সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী Pedro Sánchez জানিয়েছেন, শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও অধিকার রক্ষায় প্রযুক্তি জায়ান্টদের ‘দণ্ডমুক্তি’ আর চলবে না।

মঙ্গলবার নিজের X অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “এই প্ল্যাটফর্মগুলো আমাদের শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, মর্যাদা এবং অধিকার ক্ষুণ্ন করছে। রাষ্ট্র এটি মেনে নিতে পারে না। এই প্রযুক্তি জায়ান্টদের দণ্ডমুক্তির অবসান ঘটাতে হবে।” সরকারের পক্ষ থেকে প্রসিকিউটরদের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইউরোপজুড়ে যখন বিগ টেক কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আরোপের উদ্যোগ বাড়ছে—ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে প্রতিযোগিতাবিরোধী আচরণ এবং সামাজিক মাধ্যমে আসক্তিমূলক ফিচার তৈরির অভিযোগসহ—ঠিক সেই প্রেক্ষাপটে স্পেনের এ পদক্ষেপ এলো।

এ মাসের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী সানচেজ ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমকে “ডিজিটাল ওয়াইল্ড ওয়েস্ট” হিসেবে বর্ণনা করেন। বর্তমানে Facebook ও TikTok–এর মতো প্ল্যাটফর্মে ন্যূনতম বয়সসীমা ১৩ বছর।

এ প্রস্তাব ঘিরে প্রযুক্তি খাতের কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তিত্ব তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। X–এর মালিক Elon Musk সানচেজকে “স্পেনের জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতক” বলে মন্তব্য করেন। অন্যদিকে Telegram–এর প্রতিষ্ঠাতা Pavel Durov দাবি করেন, এসব উদ্যোগ প্রকৃত সুরক্ষা নয়, বরং “সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ” প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ।

Ipsos Education Monitor 2025–এর এক জরিপে দেখা গেছে, স্পেনে ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পক্ষে সমর্থন বেড়ে ৮২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ৭৩ শতাংশ। ৩০টি দেশে পরিচালিত ওই জরিপে অধিকাংশ উত্তরদাতা একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার পক্ষে মত দিয়েছেন।

স্পেনই একমাত্র দেশ নয় যারা X–এ xAI–এর চ্যাটবট Grok–এর মাধ্যমে তৈরি যৌনউত্তেজক কনটেন্ট নিয়ে তদন্ত করছে। অবৈধ কনটেন্ট দমনে বিভিন্ন দেশ তদন্ত, নিষেধাজ্ঞা এবং কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করছে।

ডিসেম্বরে Australia ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে দেশব্যাপী নিষেধাজ্ঞা চালু করে—এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১০টি বড় প্ল্যাটফর্ম যদি ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের সরাতে “যৌক্তিক পদক্ষেপ” না নেয়, তাহলে তাদের ৩৩ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত জরিমানা করা যেতে পারে।

কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় শিশুদের বলে শনাক্ত প্রায় ৪৭ লাখ অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার বন্ধ করেছে সামাজিক মাধ্যম কোম্পানিগুলো।

বিশ্লেষকদের মতে, স্পেনের এই পদক্ষেপ ইউরোপে প্রযুক্তি খাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং শিশু সুরক্ষাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন নীতিগত পরিবর্তনের পথ উন্মুক্ত করতে পারে।

সূত্রঃ আল জাজিয়া

ট্যাগ

সৌদি আরব ও কুয়েত লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ

সৌদি আরব ও কুয়েত লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার নতুন অধ্যায় তৈরি হয়েছে। সৌদি আরব ও কুয়েতকে লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার মধ্যরাতের পর এসব মিসাইল ছোড়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সৌদি আরব ও কুয়েত উভয় দেশই জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলাগুলো সফলভাবে প্রতিহত করেছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী রিয়াদের কাছে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। কিন্তু লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মিসাইলগুলো ধ্বংস করে দেয়। এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে সেটিকে ধ্বংস করা হয়। তবে প্রতিরক্ষা মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ একটি এলাকায় পড়ে সামান্য ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে। যদিও এতে বড় ধরনের কোনো ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস জানিয়েছে, কুয়েতে অবস্থিত নিজেদের দূতাবাস আংশিক বা সম্পূর্ণ খালি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে মার্কিন ও মিত্র দেশগুলোর সামরিক উপস্থিতি এবং পাল্টাপাল্টি হুমকির কারণে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরো পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

বাহরাইনে ড্রোন হামলা, লক্ষ্য ছিল মার্কিন সেনাদের আবাসস্থল

বাহরাইনে ড্রোন হামলা, লক্ষ্য ছিল মার্কিন সেনাদের আবাসস্থল

মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশ বাহরাইনের রাজধানী মানামায় একটি হোটেলে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয় ও আঞ্চলিক কয়েকটি অসমর্থিত সূত্রের দাবি, সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। খবরে বলা হয়েছে, হামলার আগে শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টার দিকে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজধানীতে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে। সে সময় কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ স্থানে আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানায়। এতে বোঝা যায় যে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি সম্পর্কে আগেই সতর্ক ছিল দেশটির প্রশাসন। স্থানীয় একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, রাজধানী মানামার জুফফাইর এলাকায় অবস্থিত একটি হোটেল বা আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওই এলাকাতেই মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর অবস্থিত এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বহু সামরিক সদস্য অবস্থান করেন। ধারণা করা হচ্ছে, হামলার লক্ষ্য ছিল ওই নৌবহরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেনাদের আবাসস্থল। তবে হামলার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি বাহরাইনের সরকার বা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষ। হতাহতের কোনো তথ্যও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একইভাবে ইরানের পক্ষ থেকেও এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলার খবর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে ঘটনাটিকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ...

আরো পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

ইতিকাফে কী কী আমল করবেন?

ইতিকাফে কী কী আমল করবেন?

রমজান মাসের শেষ দশক মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতময় সময়। এই সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো ইতিকাফ। ইতিকাফের অর্থ হলো দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে মসজিদে অবস্থান করা এবং ইবাদতে মগ্ন থাকা। ইসলামী চিন্তাবিদরা বলেন, রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফে বসার সুযোগ পাওয়া একজন মুসলমানের জন্য বিরাট নেয়ামত। ইতিকাফের সময়টিকে সর্বোত্তমভাবে কাজে লাগাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো কুরআন তিলাওয়াত। অনেক মুসলমানই রমজানের প্রথম অংশে কাজ, ব্যবসা বা পারিবারিক ব্যস্ততার কারণে কুরআনের জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেন না। তাই শেষ দশকের এই সময়টিকে কুরআনের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ হিসেবে নেওয়া যায়। অনেকে চেষ্টা করেন এই দশ দিনের মধ্যেই অন্তত একবার কুরআন খতম করার। ইতিকাফের সময় আল্লাহর কাছে দোয়া করা এবং ইস্তিগফার করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আলেমদের মতে, এই সময়টি নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার অন্যতম সেরা সুযোগ। ইতিকাফে বসে বেশি বেশি তওবা, ইস্তিগফার এবং কান্নাভেজা দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। একই সঙ্গে নিজের পরিবার, সমাজ এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কল্যাণের জন্য দোয়া করা উত্তম। কারণ এই সময়ের কোনো রাত যদি লাইলাতুল কদর হয়ে যায়, তাহলে সেই দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফের গুরুত্ব ও ফজিলত এছাড়া ইতিকাফের সময় বেশি বেশি নফল ইবাদত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। শুধু ফরজ...

আরো পড়ুন
ট্যাগ

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফের গুরুত্ব ও ফজিলত

রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফের গুরুত্ব ও ফজিলত

রমজান মাসের শেষ দশকে মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ একটি ইবাদত হলো ইতিকাফ। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে দুনিয়ার সব ব্যস্ততা থেকে নিজেকে দূরে রেখে মসজিদে অবস্থান করে ইবাদতে নিমগ্ন থাকার এই আমলকে ইসলামে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আলেমরা বলেন, ইতিকাফ মানুষের আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সুযোগ। ইতিকাফের মূল উদ্দেশ্য হলো দুনিয়াবি ব্যস্ততা থেকে দূরে সরে আল্লাহর ইবাদতে সম্পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া। মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পরিবার, সমাজ, কাজ এবং নানা দায়িত্বের কারণে অনেক সময় গভীরভাবে ইবাদতে মনোনিবেশ করা সম্ভব হয় না। ইতিকাফ সেই সুযোগকে উন্মুক্ত করে দেয়, যেখানে একজন মুসলমান নিরবচ্ছিন্নভাবে আল্লাহর স্মরণ, নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত এবং দোয়া-ইস্তিগফারে সময় ব্যয় করতে পারেন। ১৭ রমজান: বদর যুদ্ধের ঐতিহাসিক দিন। কুরআনুল কারিমেও ইতিকাফের উল্লেখ রয়েছে। সূরা আল-বাকারা ১২৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, তিনি হযরত ইবরাহিম (আ.) ও হযরত ইসমাঈল (আ.)-কে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তাঁরা তাঁর ঘরকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী এবং রুকু-সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখেন। এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, ইতিকাফের বিধান ইসলামের প্রাচীন ঐতিহ্যের অংশ। হাদিসেও ইতিকাফের গুরুত্ব সম্পর্কে বহু বর্ণনা রয়েছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় হিজরতের পর প্রায় প্রতি বছরই রমজানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করতেন। একবার বিশেষ কারণে ইতিকাফ করতে না পারায় পরের বছর তিনি বিশ দিন ইতিকাফ করেছিলেন বলে হাদিসে উল্লেখ...

আরো পড়ুন
ট্যাগ

এআই কনটেন্ট ইস্যুতে X–Meta–TikTok-এর বিরুদ্ধে স্পেনের তদন্ত

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:৫৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এআই-তৈরি শিশু যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত কনটেন্ট ছড়ানোর অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগ  মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম X, Meta ও TikTok–এর বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে স্পেন সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী Pedro Sánchez জানিয়েছেন, শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও অধিকার রক্ষায় প্রযুক্তি জায়ান্টদের ‘দণ্ডমুক্তি’ আর চলবে না।

মঙ্গলবার নিজের X অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “এই প্ল্যাটফর্মগুলো আমাদের শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, মর্যাদা এবং অধিকার ক্ষুণ্ন করছে। রাষ্ট্র এটি মেনে নিতে পারে না। এই প্রযুক্তি জায়ান্টদের দণ্ডমুক্তির অবসান ঘটাতে হবে।” সরকারের পক্ষ থেকে প্রসিকিউটরদের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইউরোপজুড়ে যখন বিগ টেক কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আরোপের উদ্যোগ বাড়ছে—ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে প্রতিযোগিতাবিরোধী আচরণ এবং সামাজিক মাধ্যমে আসক্তিমূলক ফিচার তৈরির অভিযোগসহ—ঠিক সেই প্রেক্ষাপটে স্পেনের এ পদক্ষেপ এলো।

এ মাসের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী সানচেজ ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমকে “ডিজিটাল ওয়াইল্ড ওয়েস্ট” হিসেবে বর্ণনা করেন। বর্তমানে Facebook ও TikTok–এর মতো প্ল্যাটফর্মে ন্যূনতম বয়সসীমা ১৩ বছর।

এ প্রস্তাব ঘিরে প্রযুক্তি খাতের কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তিত্ব তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। X–এর মালিক Elon Musk সানচেজকে “স্পেনের জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতক” বলে মন্তব্য করেন। অন্যদিকে Telegram–এর প্রতিষ্ঠাতা Pavel Durov দাবি করেন, এসব উদ্যোগ প্রকৃত সুরক্ষা নয়, বরং “সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ” প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ।

Ipsos Education Monitor 2025–এর এক জরিপে দেখা গেছে, স্পেনে ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পক্ষে সমর্থন বেড়ে ৮২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ৭৩ শতাংশ। ৩০টি দেশে পরিচালিত ওই জরিপে অধিকাংশ উত্তরদাতা একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার পক্ষে মত দিয়েছেন।

স্পেনই একমাত্র দেশ নয় যারা X–এ xAI–এর চ্যাটবট Grok–এর মাধ্যমে তৈরি যৌনউত্তেজক কনটেন্ট নিয়ে তদন্ত করছে। অবৈধ কনটেন্ট দমনে বিভিন্ন দেশ তদন্ত, নিষেধাজ্ঞা এবং কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করছে।

ডিসেম্বরে Australia ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে দেশব্যাপী নিষেধাজ্ঞা চালু করে—এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১০টি বড় প্ল্যাটফর্ম যদি ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের সরাতে “যৌক্তিক পদক্ষেপ” না নেয়, তাহলে তাদের ৩৩ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত জরিমানা করা যেতে পারে।

কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় শিশুদের বলে শনাক্ত প্রায় ৪৭ লাখ অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার বন্ধ করেছে সামাজিক মাধ্যম কোম্পানিগুলো।

বিশ্লেষকদের মতে, স্পেনের এই পদক্ষেপ ইউরোপে প্রযুক্তি খাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং শিশু সুরক্ষাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন নীতিগত পরিবর্তনের পথ উন্মুক্ত করতে পারে।

সূত্রঃ আল জাজিয়া