
এআই-তৈরি শিশু যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত কনটেন্ট ছড়ানোর অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম X, Meta ও TikTok–এর বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে স্পেন সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী Pedro Sánchez জানিয়েছেন, শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও অধিকার রক্ষায় প্রযুক্তি জায়ান্টদের ‘দণ্ডমুক্তি’ আর চলবে না।
মঙ্গলবার নিজের X অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “এই প্ল্যাটফর্মগুলো আমাদের শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, মর্যাদা এবং অধিকার ক্ষুণ্ন করছে। রাষ্ট্র এটি মেনে নিতে পারে না। এই প্রযুক্তি জায়ান্টদের দণ্ডমুক্তির অবসান ঘটাতে হবে।” সরকারের পক্ষ থেকে প্রসিকিউটরদের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইউরোপজুড়ে যখন বিগ টেক কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ আরোপের উদ্যোগ বাড়ছে—ডিজিটাল বিজ্ঞাপনে প্রতিযোগিতাবিরোধী আচরণ এবং সামাজিক মাধ্যমে আসক্তিমূলক ফিচার তৈরির অভিযোগসহ—ঠিক সেই প্রেক্ষাপটে স্পেনের এ পদক্ষেপ এলো।
এ মাসের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী সানচেজ ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমকে “ডিজিটাল ওয়াইল্ড ওয়েস্ট” হিসেবে বর্ণনা করেন। বর্তমানে Facebook ও TikTok–এর মতো প্ল্যাটফর্মে ন্যূনতম বয়সসীমা ১৩ বছর।
এ প্রস্তাব ঘিরে প্রযুক্তি খাতের কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তিত্ব তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। X–এর মালিক Elon Musk সানচেজকে “স্পেনের জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতক” বলে মন্তব্য করেন। অন্যদিকে Telegram–এর প্রতিষ্ঠাতা Pavel Durov দাবি করেন, এসব উদ্যোগ প্রকৃত সুরক্ষা নয়, বরং “সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ” প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ।
Ipsos Education Monitor 2025–এর এক জরিপে দেখা গেছে, স্পেনে ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পক্ষে সমর্থন বেড়ে ৮২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ৭৩ শতাংশ। ৩০টি দেশে পরিচালিত ওই জরিপে অধিকাংশ উত্তরদাতা একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার পক্ষে মত দিয়েছেন।
স্পেনই একমাত্র দেশ নয় যারা X–এ xAI–এর চ্যাটবট Grok–এর মাধ্যমে তৈরি যৌনউত্তেজক কনটেন্ট নিয়ে তদন্ত করছে। অবৈধ কনটেন্ট দমনে বিভিন্ন দেশ তদন্ত, নিষেধাজ্ঞা এবং কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করছে।
ডিসেম্বরে Australia ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে দেশব্যাপী নিষেধাজ্ঞা চালু করে—এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১০টি বড় প্ল্যাটফর্ম যদি ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের সরাতে “যৌক্তিক পদক্ষেপ” না নেয়, তাহলে তাদের ৩৩ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত জরিমানা করা যেতে পারে।
কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় শিশুদের বলে শনাক্ত প্রায় ৪৭ লাখ অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার বন্ধ করেছে সামাজিক মাধ্যম কোম্পানিগুলো।
বিশ্লেষকদের মতে, স্পেনের এই পদক্ষেপ ইউরোপে প্রযুক্তি খাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং শিশু সুরক্ষাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন নীতিগত পরিবর্তনের পথ উন্মুক্ত করতে পারে।
সূত্রঃ আল জাজিয়া
সমাচার বিশ্ব নিউজ ডেক্স 



















