
চাঁদ ধীরে ধীরে সঙ্কুচিত হচ্ছে। ব্রিটেনের Center for Earth and Planetary Studies–এর গবেষকদের এক সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে এমনই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তারা চন্দ্রপৃষ্ঠে ১,১১৪টি নতুন ফাটল বা ক্ষুদ্র পর্বতশ্রেণী শনাক্ত করেছেন। ফলে এখন পর্যন্ত চাঁদে নথিভুক্ত মোট এমন গঠনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২,৬৩৪।
গবেষকদের মতে, চাঁদের অভ্যন্তরীণ অংশ ধীরে ধীরে ঠান্ডা হচ্ছে। এই শীতলতার ফলে ভেতরের অংশ সঙ্কুচিত হয় এবং তার প্রভাবে বাইরের ভূত্বক চাপে পড়ে ভাঁজ ও ফাটল তৈরি করে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই প্রক্রিয়াই চাঁদের আকারে সূক্ষ্ম পরিবর্তন আনছে। যদিও ২০১০ সাল থেকেই চাঁদের সঙ্কোচনের বিষয়টি বৈজ্ঞানিক মহলে আলোচিত, নতুন গবেষণা পৃষ্ঠের পরিবর্তনের ব্যাপ্তি আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
গবেষক টম ওয়াটার্স প্রথম ২০১০ সালে চন্দ্র ফাটলের উপস্থিতি নিয়ে পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করেন। তার মতে, চন্দ্র সমভূমিতে নতুন ফাটলগুলোর বিস্তৃত উপস্থিতি একটি “গতিশীল ও ক্রমাগত সঙ্কুচিত চাঁদ”-এর চিত্রকে পূর্ণতা দেয়।
গবেষণার প্রধান লেখক ড. কোল নিবুহর জানান, অ্যাপোলো যুগ থেকে বিজ্ঞানীরা চন্দ্র উচ্চভূমিতে লোব আকৃতির ঢাল বা স্কার্প সম্পর্কে জানতেন। তবে এবারই প্রথম চন্দ্রের অন্ধকার সমভূমি, যেগুলোকে ‘মারিয়া’ বলা হয়, সেখানে একই ধরনের বৈশিষ্ট্যের বিস্তৃত উপস্থিতি নথিভুক্ত করা হয়েছে।
এই আবিষ্কার ভবিষ্যতের চন্দ্র অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। গবেষকদের আশঙ্কা, শক্তিশালী চন্দ্রকম্প বা ‘মুনকোয়েক’ ভবিষ্যতে চাঁদে কাজ করা নভোচারী কিংবা সম্ভাব্য স্থায়ী ঘাঁটির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। চাঁদের ভূত্বকের গতি ও ভূমিকম্পের প্রকৃতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া গেলে তা ভবিষ্যৎ অভিযানের নিরাপত্তা ও সাফল্যে সরাসরি ভূমিকা রাখবে।
বিশ্লেষকদের মতে, চাঁদে ফের মানব মিশন ও স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনার প্রেক্ষাপটে এই গবেষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ পৃষ্ঠের স্থিতিশীলতা ও ভূকম্পন ঝুঁকি মূল্যায়ন ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি নিশ্চিত করা কঠিন হবে।
সমাচার বিশ্ব নিউজ ডেক্স 



















