০৩:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২০২৫ সালে রাশিয়ার ৪ লাখের বেশি হতাহত,

২০২৫ সালে রাশিয়ার ৪ লাখের বেশি হতাহত, ভূখণ্ড লাভ ১% এরও কম

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর ২০২৫ সাল রুশ বাহিনীর জন্য সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী বছর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফরাসি দৈনিক Les Echos এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলতি বছরে ইউক্রেনের ভূখণ্ডে ১ শতাংশেরও কম অগ্রগতি সত্ত্বেও রাশিয়ার সামরিক ক্ষয়ক্ষতি ৪ লাখ ১৫ হাজার ছাড়িয়েছে।

প্রতিবেদনটি ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) এর বিশ্লেষণ উদ্ধৃত করে জানায়, ২০২৫ সালে রাশিয়ার প্রায় ৪ লাখ ১৫ হাজার সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন, যা গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৩৫ হাজার। গবেষণায় বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোনো বৃহৎ শক্তির জন্য এটি নজিরবিহীন মাত্রার ক্ষয়ক্ষতি।

অন্যদিকে ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফের হিসাব আরও বেশি, তাদের দাবি অনুযায়ী ২০২৫ সালে রাশিয়ার মোট হতাহতের সংখ্যা ৪ লাখ ১৮ হাজারের বেশি। সিএসআইএসের বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, সামগ্রিকভাবে রাশিয়ার ক্ষয়ক্ষতি ইউক্রেনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

ভূখণ্ডের দিক থেকে পরিস্থিতি প্রায় স্থবির। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার  (আইএসডব্লিউ) এর বিশ্লেষণ বলছে, ২০২৫ সালের মধ্যে রাশিয়া ইউক্রেনের মাত্র প্রায় ০.৮ শতাংশ অতিরিক্ত ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে, যার পরিমাণ আনুমানিক ৪ হাজার ৩০০ বর্গকিলোমিটার। বর্তমানে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ইউক্রেনের প্রায় ১৯.৩ শতাংশ এলাকা, যেখানে ক্রিমিয়াও অন্তর্ভুক্ত। ইউক্রেনের মোট আয়তন প্রায় ৬ লাখ ৩ হাজার বর্গকিলোমিটার।

মানবিক ক্ষতির দিক থেকেও চিত্র ভয়াবহ। ইউক্রেনে জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশনের হিসাবে চার বছরে অন্তত ১৫ হাজার ১৬৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৪১ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। একই সময়ে দেশটি তার যুদ্ধ-পূর্ব জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ হারিয়েছে। যুদ্ধের আগে ইউক্রেনের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ। সরকারি হিসাবে ২০২৩ সালে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ রুশ অধিকৃত অঞ্চলে বাস করছিল।

শরণার্থী সংকটও তীব্র। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা UNHCR-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫.৯ মিলিয়ন ইউক্রেনীয় দেশ ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।

টানা তিন বছর ধরে যুদ্ধ কার্যত অচলাবস্থায় রয়েছে। সীমিত ভূখণ্ডগত অগ্রগতির বিনিময়ে বিপুল প্রাণহানি এই সংঘাতকে আধুনিক ইউরোপের অন্যতম ব্যয়বহুল ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে পরিণত করেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে উভয় পক্ষের ওপর মানবিক ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়বে।

ট্যাগ

সৌদি আরব ও কুয়েত লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ

সৌদি আরব ও কুয়েত লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার নতুন অধ্যায় তৈরি হয়েছে। সৌদি আরব ও কুয়েতকে লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার মধ্যরাতের পর এসব মিসাইল ছোড়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সৌদি আরব ও কুয়েত উভয় দেশই জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলাগুলো সফলভাবে প্রতিহত করেছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী রিয়াদের কাছে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। কিন্তু লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মিসাইলগুলো ধ্বংস করে দেয়। এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল। দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে সেটিকে ধ্বংস করা হয়। তবে প্রতিরক্ষা মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ একটি এলাকায় পড়ে সামান্য ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে। যদিও এতে বড় ধরনের কোনো ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস জানিয়েছে, কুয়েতে অবস্থিত নিজেদের দূতাবাস আংশিক বা সম্পূর্ণ খালি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে মার্কিন ও মিত্র দেশগুলোর সামরিক উপস্থিতি এবং পাল্টাপাল্টি হুমকির কারণে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরো পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

বাহরাইনে ড্রোন হামলা, লক্ষ্য ছিল মার্কিন সেনাদের আবাসস্থল

বাহরাইনে ড্রোন হামলা, লক্ষ্য ছিল মার্কিন সেনাদের আবাসস্থল

মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশ বাহরাইনের রাজধানী মানামায় একটি হোটেলে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। স্থানীয় ও আঞ্চলিক কয়েকটি অসমর্থিত সূত্রের দাবি, সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। খবরে বলা হয়েছে, হামলার আগে শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টার দিকে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজধানীতে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে। সে সময় কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ স্থানে আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানায়। এতে বোঝা যায় যে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি সম্পর্কে আগেই সতর্ক ছিল দেশটির প্রশাসন। স্থানীয় একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, রাজধানী মানামার জুফফাইর এলাকায় অবস্থিত একটি হোটেল বা আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। ওই এলাকাতেই মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর অবস্থিত এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বহু সামরিক সদস্য অবস্থান করেন। ধারণা করা হচ্ছে, হামলার লক্ষ্য ছিল ওই নৌবহরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেনাদের আবাসস্থল। তবে হামলার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি বাহরাইনের সরকার বা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষ। হতাহতের কোনো তথ্যও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একইভাবে ইরানের পক্ষ থেকেও এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলার খবর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে ঘটনাটিকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ...

আরো পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফের গুরুত্ব ও ফজিলত

রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফের গুরুত্ব ও ফজিলত

রমজান মাসের শেষ দশকে মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ একটি ইবাদত হলো ইতিকাফ। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে দুনিয়ার সব ব্যস্ততা থেকে নিজেকে দূরে রেখে মসজিদে অবস্থান করে ইবাদতে নিমগ্ন থাকার এই আমলকে ইসলামে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আলেমরা বলেন, ইতিকাফ মানুষের আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সুযোগ। ইতিকাফের মূল উদ্দেশ্য হলো দুনিয়াবি ব্যস্ততা থেকে দূরে সরে আল্লাহর ইবাদতে সম্পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া। মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পরিবার, সমাজ, কাজ এবং নানা দায়িত্বের কারণে অনেক সময় গভীরভাবে ইবাদতে মনোনিবেশ করা সম্ভব হয় না। ইতিকাফ সেই সুযোগকে উন্মুক্ত করে দেয়, যেখানে একজন মুসলমান নিরবচ্ছিন্নভাবে আল্লাহর স্মরণ, নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত এবং দোয়া-ইস্তিগফারে সময় ব্যয় করতে পারেন। ১৭ রমজান: বদর যুদ্ধের ঐতিহাসিক দিন। কুরআনুল কারিমেও ইতিকাফের উল্লেখ রয়েছে। সূরা আল-বাকারা ১২৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, তিনি হযরত ইবরাহিম (আ.) ও হযরত ইসমাঈল (আ.)-কে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তাঁরা তাঁর ঘরকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী এবং রুকু-সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখেন। এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, ইতিকাফের বিধান ইসলামের প্রাচীন ঐতিহ্যের অংশ। হাদিসেও ইতিকাফের গুরুত্ব সম্পর্কে বহু বর্ণনা রয়েছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় হিজরতের পর প্রায় প্রতি বছরই রমজানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করতেন। একবার বিশেষ কারণে ইতিকাফ করতে না পারায় পরের বছর তিনি বিশ দিন ইতিকাফ করেছিলেন বলে হাদিসে উল্লেখ...

আরো পড়ুন
ট্যাগ

পরবর্তী সংবাদ পড়ুন

বদি ও আইভীর জামিন স্থগিত, শুনানি ৯ মার্চ

বদি ও আইভীর জামিন স্থগিত, শুনানি ৯ মার্চ

বগুড়ায় দায়ের করা জুলাই-আগস্টের হত্যাচেষ্টা মামলায় কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন ৯ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করেছেন চেম্বার আদালত। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বাংলাদেশের আপিল বিভাগ-এর চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল ইসলাম সুমন ও মো. আক্তারুজ্জামান। এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বগুড়ায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় বদিকে জামিন দেন বাংলাদেশের হাইকোর্ট-এর বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের বেঞ্চ। মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট হত্যাচেষ্টা মামলায় চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ এলাকা থেকে র‌্যাব আবদুর রহমান বদিকে গ্রেপ্তার করে। রাজনৈতিক জীবনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আবদুর রহমান বদি। তবে দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার পরিবর্তে আওয়ামী লীগ তার স্ত্রী শাহীন আক্তারকে মনোনয়ন দেয় এবং তিনি দুই দফায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় দায়ের হওয়া চারটি হত্যামামলাসহ মোট পাঁচ মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে দেওয়া জামিনও স্থগিত করেছেন একই আদালত। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বাংলাদেশের আপিল বিভাগ-এর চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আইভীর জামিন বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ শুনানির জন্য আগামী ৯ মার্চ দিন...

আরো পড়ুন
ট্যাগ

২০২৫ সালে রাশিয়ার ৪ লাখের বেশি হতাহত,

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০৯:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর ২০২৫ সাল রুশ বাহিনীর জন্য সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী বছর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফরাসি দৈনিক Les Echos এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলতি বছরে ইউক্রেনের ভূখণ্ডে ১ শতাংশেরও কম অগ্রগতি সত্ত্বেও রাশিয়ার সামরিক ক্ষয়ক্ষতি ৪ লাখ ১৫ হাজার ছাড়িয়েছে।

প্রতিবেদনটি ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) এর বিশ্লেষণ উদ্ধৃত করে জানায়, ২০২৫ সালে রাশিয়ার প্রায় ৪ লাখ ১৫ হাজার সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন, যা গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৩৫ হাজার। গবেষণায় বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোনো বৃহৎ শক্তির জন্য এটি নজিরবিহীন মাত্রার ক্ষয়ক্ষতি।

অন্যদিকে ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফের হিসাব আরও বেশি, তাদের দাবি অনুযায়ী ২০২৫ সালে রাশিয়ার মোট হতাহতের সংখ্যা ৪ লাখ ১৮ হাজারের বেশি। সিএসআইএসের বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, সামগ্রিকভাবে রাশিয়ার ক্ষয়ক্ষতি ইউক্রেনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

ভূখণ্ডের দিক থেকে পরিস্থিতি প্রায় স্থবির। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার  (আইএসডব্লিউ) এর বিশ্লেষণ বলছে, ২০২৫ সালের মধ্যে রাশিয়া ইউক্রেনের মাত্র প্রায় ০.৮ শতাংশ অতিরিক্ত ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে, যার পরিমাণ আনুমানিক ৪ হাজার ৩০০ বর্গকিলোমিটার। বর্তমানে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ইউক্রেনের প্রায় ১৯.৩ শতাংশ এলাকা, যেখানে ক্রিমিয়াও অন্তর্ভুক্ত। ইউক্রেনের মোট আয়তন প্রায় ৬ লাখ ৩ হাজার বর্গকিলোমিটার।

মানবিক ক্ষতির দিক থেকেও চিত্র ভয়াবহ। ইউক্রেনে জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশনের হিসাবে চার বছরে অন্তত ১৫ হাজার ১৬৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৪১ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। একই সময়ে দেশটি তার যুদ্ধ-পূর্ব জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ হারিয়েছে। যুদ্ধের আগে ইউক্রেনের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ। সরকারি হিসাবে ২০২৩ সালে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ রুশ অধিকৃত অঞ্চলে বাস করছিল।

শরণার্থী সংকটও তীব্র। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা UNHCR-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫.৯ মিলিয়ন ইউক্রেনীয় দেশ ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।

টানা তিন বছর ধরে যুদ্ধ কার্যত অচলাবস্থায় রয়েছে। সীমিত ভূখণ্ডগত অগ্রগতির বিনিময়ে বিপুল প্রাণহানি এই সংঘাতকে আধুনিক ইউরোপের অন্যতম ব্যয়বহুল ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে পরিণত করেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে উভয় পক্ষের ওপর মানবিক ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়বে।