
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর ২০২৫ সাল রুশ বাহিনীর জন্য সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী বছর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফরাসি দৈনিক Les Echos এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলতি বছরে ইউক্রেনের ভূখণ্ডে ১ শতাংশেরও কম অগ্রগতি সত্ত্বেও রাশিয়ার সামরিক ক্ষয়ক্ষতি ৪ লাখ ১৫ হাজার ছাড়িয়েছে।
প্রতিবেদনটি ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) এর বিশ্লেষণ উদ্ধৃত করে জানায়, ২০২৫ সালে রাশিয়ার প্রায় ৪ লাখ ১৫ হাজার সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন, যা গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৩৫ হাজার। গবেষণায় বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোনো বৃহৎ শক্তির জন্য এটি নজিরবিহীন মাত্রার ক্ষয়ক্ষতি।
অন্যদিকে ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফের হিসাব আরও বেশি, তাদের দাবি অনুযায়ী ২০২৫ সালে রাশিয়ার মোট হতাহতের সংখ্যা ৪ লাখ ১৮ হাজারের বেশি। সিএসআইএসের বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, সামগ্রিকভাবে রাশিয়ার ক্ষয়ক্ষতি ইউক্রেনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
ভূখণ্ডের দিক থেকে পরিস্থিতি প্রায় স্থবির। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার (আইএসডব্লিউ) এর বিশ্লেষণ বলছে, ২০২৫ সালের মধ্যে রাশিয়া ইউক্রেনের মাত্র প্রায় ০.৮ শতাংশ অতিরিক্ত ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে, যার পরিমাণ আনুমানিক ৪ হাজার ৩০০ বর্গকিলোমিটার। বর্তমানে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ইউক্রেনের প্রায় ১৯.৩ শতাংশ এলাকা, যেখানে ক্রিমিয়াও অন্তর্ভুক্ত। ইউক্রেনের মোট আয়তন প্রায় ৬ লাখ ৩ হাজার বর্গকিলোমিটার।
মানবিক ক্ষতির দিক থেকেও চিত্র ভয়াবহ। ইউক্রেনে জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশনের হিসাবে চার বছরে অন্তত ১৫ হাজার ১৬৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৪১ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। একই সময়ে দেশটি তার যুদ্ধ-পূর্ব জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ হারিয়েছে। যুদ্ধের আগে ইউক্রেনের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৪ কোটি ২০ লাখ। সরকারি হিসাবে ২০২৩ সালে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ রুশ অধিকৃত অঞ্চলে বাস করছিল।
শরণার্থী সংকটও তীব্র। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা UNHCR-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫.৯ মিলিয়ন ইউক্রেনীয় দেশ ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।
টানা তিন বছর ধরে যুদ্ধ কার্যত অচলাবস্থায় রয়েছে। সীমিত ভূখণ্ডগত অগ্রগতির বিনিময়ে বিপুল প্রাণহানি এই সংঘাতকে আধুনিক ইউরোপের অন্যতম ব্যয়বহুল ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে পরিণত করেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে উভয় পক্ষের ওপর মানবিক ও অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়বে।
সমাচার বিশ্ব নিউজ ডেক্স 



















