
ভাষার মাস ফেব্রুয়ারির আবহে আজ শুরু হচ্ছে বাঙালির সবচেয়ে বড় সাহিত্য উৎসব অমর একুশে বইমেলা। ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দুপুর ২টায় মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলা ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধারণ করে আয়োজিত এ মেলা প্রতিবছরের মতো এবারও লেখক, পাঠক ও প্রকাশকদের মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এবারের আয়োজনে অংশ নিচ্ছে মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠান স্টল পেয়েছে। মোট ইউনিট সংখ্যা ১,০১৮টি। গত বছর অংশ নিয়েছিল ৭০৮টি প্রতিষ্ঠান এবং ইউনিট ছিল ১,০৮৪টি। আয়োজকরা জানিয়েছেন, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কিছুটা কমলেও মানসম্মত প্রকাশনা ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার দিকে এবার বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চসংলগ্ন গাছতলায় থাকছে লিটল ম্যাগাজিন চত্বর, যেখানে ৮৭টি লিটল ম্যাগাজিনকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নতুন ও বিকল্প ধারার সাহিত্যচর্চার জন্য এই চত্বর বরাবরের মতোই আকর্ষণের কেন্দ্র হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শিশুচত্বরে থাকছে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান ও ১০৭টি ইউনিট, যেখানে শিশু-কিশোরদের বইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন সৃজনশীল আয়োজন থাকবে।
মেলার বিন্যাস গতবারের মতোই রাখা হয়েছে। তবে মেট্রোরেল স্টেশনের অবস্থানগত পরিবর্তনের কারণে বাহিরপথ কিছুটা সরিয়ে মন্দির গেটের কাছে নেওয়া হয়েছে। টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি বেসিং প্লান্ট ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন অংশে চারটি প্রবেশ ও বাহিরপথ রাখা হয়েছে, যাতে দর্শনার্থীদের যাতায়াত স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়। খাবারের স্টলগুলো ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনের সীমানা ঘেঁষে সাজানো হয়েছে। নামাজের স্থান, ওয়াশরুমসহ প্রয়োজনীয় সেবার ব্যবস্থাও থাকছে। পবিত্র রমজান উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে তারাবি নামাজের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
বই বিক্রির ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমি ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নির্ধারিত কমিশনে বই বিক্রি করবে। বাংলা একাডেমির বই ও পত্রপত্রিকা বিক্রির জন্য মেলার দুই অংশেই আলাদা স্টল থাকবে।
প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত মূল মঞ্চে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত থাকবে ‘শিশুপ্রহর’। শিশু-কিশোরদের জন্য চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের ব্যবস্থাও থাকবে।
আজ থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত (ছুটির দিন ব্যতীত) প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। রাত ৮টা ৩০ মিনিটের পর নতুন করে কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। ছুটির দিনে মেলা চলবে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। আয়োজকদের প্রত্যাশা, পাঠকসমাগম ও নতুন বইয়ের ভিড়ে আবারও প্রাণ ফিরে পাবে একুশের বইমেলা।
সমাচার বিশ্ব নিউজ ডেক্স 



















