
দেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে জাতীয় অর্থনীতির ‘লাইফলাইন’ হিসেবে উল্লেখ করে এ খাতের উন্নয়নকে সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করেছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। তিনি বলেন, পোশাক শিল্প শক্তিশালী হলে দেশের অর্থনীতিও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে। তাই এ খাতের সমস্যাগুলো জাতীয় সংসদে জোরালোভাবে তুলে ধরার জন্য শিল্প থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর আর্মি গলফ ক্লাবে পোশাক শিল্প পরিবারের পক্ষ থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে শিল্প খাত থেকে নির্বাচিত ১৭ জন জনপ্রতিনিধিকে সম্মাননা জানানো হয়।
মাহমুদ হাসান খান বলেন, দেশের অর্থনীতি আজ বহুলাংশে পোশাক খাতনির্ভর। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা, জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক বাণিজ্যিক চাপসহ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে উদ্যোক্তাদের। এসব বাস্তব সমস্যার সমাধানে নীতিগত সহায়তা জরুরি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিল্প খাত থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থে পোশাক শিল্পের বিষয়েও সংসদে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।
তিনি আরও বলেন, পোশাক শিল্পকে ঘিরে দেশে ইতোমধ্যে টেক্সটাইল, এক্সেসরিজ, প্যাকেজিং, লজিস্টিকসসহ নানা আনুষঙ্গিক শিল্প গড়ে উঠেছে, যা কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তবে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ যেন একক কোনো শিল্পের ওপর নির্ভরশীল না থাকে, সে লক্ষ্যে বহুমুখী শিল্পায়ন ও নতুন খাতের বিকাশেও জোর দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
বিজিএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি সেলিম রহমান বলেন, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং প্রজ্ঞা শিল্পখাতের উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি শিল্প ও বাণিজ্যবান্ধব নীতি প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, পোশাক খাত দেশের শিল্পায়নের প্রাণ এবং জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত মন্ত্রীদের মধ্যে ছিলেন শিল্প, বাণিজ্য ও পাট-বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর; বেসরকারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম; গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম; শিল্প, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম; গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ আরও কয়েকজন সংসদ সদস্য অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার এই সময়ে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পোশাক শিল্পকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও বহুমাত্রিক করে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিক কল্যাণ, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ও নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা গেলে এই খাত দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যেতে সক্ষম হবে।
সমাচার বিশ্ব নিউজ ডেক্স 



















