
ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬। আজ দুপুর ২টায় প্রধান অতিথি হিসেবে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার–২০২৫ বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেবেন।
মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমি–র সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। স্বাগত বক্তব্য রাখবেন মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা ও সংস্কৃতি সচিব মো. মফিদুর রহমান।
আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত মেলা চলবে। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। ছুটির দিনে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে প্রবেশ করা যাবে না।
এবারের মেলায় অংশ নিচ্ছে মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠান স্টল নিয়েছে। মোট ইউনিট সংখ্যা ১,০১৮টি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চসংলগ্ন গাছতলায় লিটল ম্যাগাজিন চত্বরের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে ৮৭টি লিটল ম্যাগাজিনের স্টল রয়েছে।
শিশুচত্বরে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। প্রতি শুক্র ও শনিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত থাকবে ‘শিশুপ্রহর’। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত মূলমঞ্চে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন রয়েছে।
পরিবেশ সুরক্ষায় এবারের বইমেলাকে ‘জিরো ওয়েস্ট বইমেলা’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণ থাকবে পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত। স্টল, ব্যানার ও অন্যান্য উপকরণে পুনর্ব্যবহারযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব সামগ্রী ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে আয়োজকরা।
মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য থাকছে একাধিক পুরস্কার—
- চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার
- মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার
- রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার
- কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার
- নবপ্রবর্তিত সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার
মেলার নিরাপত্তায় থাকবে পর্যাপ্ত আর্চওয়ে, ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাব, আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। দর্শনার্থীদের সহায়তায় থাকবে লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড সেন্টার, ব্রেস্টফিডিং কর্নার, শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র ও প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যানজট নিরসনে বিশেষ ট্রাফিক ডাইভারশন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভারী যানবাহন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকবে এবং টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত সড়ক পরিস্থিতি অনুযায়ী খোলা বা বন্ধ রাখা হবে।
অ্যাডর্ন পাবলিকেশনের প্রকাশক সৈয়দ জাকির হোসাইন বলেন, সীমাবদ্ধতা ও আর্থিক শঙ্কার মধ্যেও বইমেলা শুরু হওয়াই বড় অর্জন। পাঠকদের উপস্থিতিতেই এবারের মেলা সফল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নির্বাচনের কারণে নির্ধারিত সময়ের পর শুরু হলেও নানা প্রস্তুতি ও প্রত্যাশা নিয়ে আজ পর্দা উঠছে বাঙালির প্রাণের এই উৎসবের। বইপ্রেমীদের মিলনমেলায় আবারও মুখরিত হবে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।
সমাচার বিশ্ব নিউজ ডেক্স 



















