
মানুষের জীবন প্রতিদিনই নানা অনুভূতি আর ঘটনার ভেতর দিয়ে এগোয়। কখনো আনন্দ, কখনো বেদনা, কখনো সাফল্য, কখনো অপ্রাপ্তি। অনেক সময় আমরা অন্যের জীবন দেখে মনে করি, তারা যেন আমাদের চেয়ে অনেক বেশি স্বচ্ছন্দে আছে। তখন অজান্তেই মনে অশান্তি তৈরি হয়, মনোবল কমে যায়।
এই মানসিক অবস্থায় ইসলাম আমাদের একটি ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি শিখিয়েছে। প্রিয়নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ যদি এমন কাউকে দেখে যাকে সম্পদ বা সামর্থ্যে বেশি দেওয়া হয়েছে, তবে সে যেন নিজের চেয়ে কম প্রাপ্ত ব্যক্তির দিকে তাকায়। (সহিহ সাহিহ আল-বুখারি, হাদিস: ৬৪৯০)।
এই হাদিসের শিক্ষা খুব সরল, কিন্তু গভীর। মানুষের উচিত নয় নিজের অবস্থা অন্যের সঙ্গে তুলনা করে হতাশ হওয়া। বরং সমাজে অসংখ্য মানুষ আছে, যারা আমাদের চেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছে। এই উপলব্ধি মানুষকে কৃতজ্ঞ হতে শেখায়, অভিযোগ নয় বরং শুকরিয়া আদায়ে উদ্বুদ্ধ করে।
আরেকটি হাদিসে নবীজি (সা.) এমন একজন ব্যক্তির কথা বলেছেন, যাকে দুনিয়ার সব সম্পদের অধিকারী হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। উবাইদুল্লাহ ইবনে মিহসান আনসারি (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সকালে তার ঘরে নিরাপদে অবস্থান করে, সুস্থ শরীর নিয়ে দিন শুরু করে এবং তার কাছে একদিনের খাবার থাকে, তাকে যেন দুনিয়ার সমস্ত সম্পদ দেওয়া হয়েছে। (জামে জামি’ আত-তিরমিদি, হাদিস: ২৩৪৬; সুনান সুনন ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৪১৪১)।
এই হাদিস আমাদের ভাবতে শেখায়, প্রকৃত প্রাচুর্য কেবল অর্থ-সম্পদে নয়। নিরাপত্তা, সুস্থতা এবং ন্যূনতম খাদ্যের নিশ্চয়তা—এগুলোই মানুষের জীবনের মৌলিক নিয়ামত। যাদের ঘর আছে, পরিবার আছে, যুদ্ধ-সংঘাত থেকে নিরাপদ আছে, এবং অন্তত একদিনের খাবার নিশ্চিত—তারা আসলে অগণিত মানুষের তুলনায় অনেক ধনী।
বর্তমান বিশ্বে নানা অস্থিরতা, যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অর্থনৈতিক সংকটে অসংখ্য মানুষ ঘরবাড়ি, স্বজন ও জীবিকা হারাচ্ছে। সেই বাস্তবতার দিকে তাকালে আমরা বুঝতে পারি, আমাদের ছোট ছোট প্রাপ্তিগুলো কত বড় নিয়ামত।
ইসলাম আমাদের হতাশার অন্ধকারে ডুবতে শেখায় না। বরং শিখিয়েছে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে, কৃতজ্ঞ হতে এবং প্রতিটি নিয়ামতকে মূল্য দিতে। যে ব্যক্তি নিরাপদ, সুস্থ এবং অল্প খাবারেও সন্তুষ্ট—হাদিসের ভাষায় সে-ই যেন পৃথিবীর সব সম্পদের অধিকারী।
সমাচার বিশ্ব নিউজ ডেক্স 



















