
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের টানা প্রায় ২৪ ঘণ্টার সামরিক অভিযানের মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি (৮৬) নিহত হয়েছেন। রোববার সকালে ইরানের সরকারি ও বেসরকারি সংবাদমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করে। দেশজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
সরকারি টেলিভিশন Islamic Republic of Iran Broadcasting (আইআরআইবি) এক প্রতিবেদনে জানায়, “আমাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা শহীদ হয়েছেন। ইরানকে সমুন্নত রাখতে এই মহান পণ্ডিত ও যোদ্ধা তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছেন।”
শনিবার ভোর থেকে তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সামরিক স্থাপনা, গোয়েন্দা সদরদপ্তর এবং কৌশলগত অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে জানা গেছে। সন্ধ্যার দিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিহায়ু খামেনির নিহত হওয়ার দাবি করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প একই তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর পাল্টা জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। আবুধাবি, দোহা, বাহরাইন ও কুয়েতের মতো এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, হামলায় দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে।
রাতভর তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে নতুন করে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইসরায়েল দাবি করেছে, তাদের বিমানবাহিনী আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।
সরকারি সূত্র জানায়, হামলায় খামেনির কন্যা, জামাতা ও এক নাতিও প্রাণ হারিয়েছেন। শনিবার সকালে তেহরানে তাঁর কার্যালয় লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে জানানো হয়েছে।
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু হলে অন্তর্বর্তী সময়ে তিন সদস্যের একটি পরিষদ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। এতে থাকবেন প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন ধর্মীয় নেতা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম BBC News জানায়, খামেনির মৃত্যুর পর প্রেসিডেন্ট ও বিচার বিভাগের প্রধান অন্তর্বর্তী তত্ত্বাবধান শুরু করবেন। পাশাপাশি Assembly of Experts নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করবে। সংবিধান অনুযায়ী, যত দ্রুত সম্ভব উত্তরসূরি নির্ধারণ করতে হবে।
ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা রুহল্লাহ খামেনি ১৯৮৯ সালে মৃত্যুবরণ করলে সেদিনই খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা নিযুক্ত করা হয়েছিল।
হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও বিপ্লবী গার্ডের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাও নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হামলার পেছনে তিনটি লক্ষ্য তুলে ধরেন—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নির্মূল, ক্ষেপণাস্ত্র ও নৌ সক্ষমতা ধ্বংস এবং শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন।
পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল সংঘাত প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।
সমাচার বিশ্ব নিউজ ডেক্স 


















