
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান সম্পূর্ণ করতে প্রায় চার সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মেইল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শুরু থেকেই এই অভিযানকে চার সপ্তাহের একটি প্রক্রিয়া হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ট্রাম্পের ভাষ্য, “আমাদের আক্রমণ যত শক্তিশালীই হোক না কেন, ইরান একটি বড় দেশ। তাই পুরো লক্ষ্য অর্জনে চার সপ্তাহ—বা তার কিছু কম সময় লাগতে পারে।” তবে তিনি একই সঙ্গে ইঙ্গিত দিয়েছেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী সময়সীমা পরিবর্তিতও হতে পারে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার পথ এখনো বন্ধ হয়নি। তবে আলোচনা কবে শুরু হতে পারে—সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত কিছু জানাননি। তাঁর মন্তব্য, “তারা কথা বলতে চায়, কিন্তু আমি বলেছি—তোমাদের গত সপ্তাহেই কথা বলা উচিত ছিল, এই সপ্তাহে নয়।”
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প স্বীকার করেন, অভিযানে আরও মার্কিন সেনার প্রাণহানি ঘটতে পারে। তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে পূর্ণ শক্তিতে অভিযান চলছে এবং লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে।”
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) তিন মার্কিন সেনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করার পর ট্রাম্প নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, “তারা প্রকৃত দেশপ্রেমিক। তাদের আত্মত্যাগের মিশন আমরা সফল করবই।”
রোববার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প জানান, গত ৪৬ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করেছে, যা তাঁর ভাষায় “বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ও জটিল সামরিক অভিযান।” তিনি দাবি করেন, ইরানের শত শত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে এবং দেশটির সামরিক অবকাঠামোর বড় অংশ ধ্বংস করা হয়েছে।
এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক ফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে রাজি হয়নি বলেই এই অভিযান শুরু করা হয়েছে। তাঁর দাবি, “তারা কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না—এমন নিশ্চয়তাও দিতে চায়নি।”
তবে ইরানের পক্ষ থেকে পূর্বে জানানো হয়েছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না; শান্তিপূর্ণ প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকারই শুধু বজায় রাখতে চায়।
অভিযানের চূড়ান্ত ফলাফল সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, “অনেক ভালো ফলাফল আসতে পারে। প্রধান লক্ষ্য হলো তাদের নেতৃত্ব কাঠামো ভেঙে দেওয়া।” তবে ইরান আলোচনায় ফিরলে হামলা বন্ধ হবে কি না—এ প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট অবস্থান জানাননি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানালেও, সামরিক অভিযান কতদূর গড়াবে—তা এখনো অনিশ্চিত।
সমাচার বিশ্ব নিউজ ডেক্স 



















