
জেরুজালেমের পশ্চিমে অবস্থিত শহর বেইত শেমেশ -এ রোববার (১ মার্চ ২০২৬) একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একটি বহুতল ভবন সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়ে। এখন পর্যন্ত অন্তত নয়জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খোঁজে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই হামলার সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো, আঘাতের আগে কোনো সতর্কতামূলক সাইরেন বাজেনি। সাধারণত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সম্ভাবনা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়। কেন এই ক্ষেত্রে তা হয়নি, সেটি খতিয়ে দেখার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ইসরায়েলের বহুস্তরভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই অত্যাধুনিক ও কার্যকর হিসেবে পরিচিত। এর মধ্যে রয়েছে আয়রন ডোম, ডেভিড’স স্লিংএবং Arrow 3। স্বল্প, মাঝারি ও দূরপাল্লার হুমকি মোকাবিলায় এ তিন স্তরের সমন্বিত ব্যবস্থাকে বিশ্বের অন্যতম উন্নত প্রতিরক্ষা ছক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সাম্প্রতিক এই হামলা দেখিয়েছে, কোনো ব্যবস্থাই পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত নয়।
চলমান উত্তেজনার মধ্যে তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরেও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। গত জুনে ইরানের বিরুদ্ধে আগের দফার ইসরায়েলি হামলার সময়ও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যুহ ভেদ করেছিল বলে খবর আসে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনায় অন্তত চারটি কারণ সামনে এসেছে।
প্রথমত, ‘স্যাচুরেশন অ্যাটাক’। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক বা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হলে রাডার ও ইন্টারসেপ্টর ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। প্রতিটি হুমকি একযোগে ট্র্যাক ও ধ্বংস করা সবসময় সম্ভব হয় না। ফলে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভেদ করতে পারে।
দ্বিতীয়ত, উন্নত ও উচ্চগতির ক্ষেপণাস্ত্র। ইরান ‘ফাত্তাহ’ নামের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির দাবি করেছে, যা মাঝপথে গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম। এ ধরনের অস্ত্র প্রচলিত ব্যালিস্টিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধের সময়সীমা কমে গেলে।
তৃতীয়ত, প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা সতর্কবার্তা ব্যর্থতা। বেইত শেমেশে সাইরেন না বাজা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাডার যদি ভুলভাবে ধরে নেয় যে ক্ষেপণাস্ত্রটি জনবসতিহীন এলাকায় পড়বে, অথবা খুব নিচু ও দ্রুতগতিতে আসায় সময়মতো শনাক্ত করা না যায়, তাহলে সতর্কবার্তা বিলম্বিত হতে পারে।
চতুর্থত, অর্থনৈতিক ও লজিস্টিক চাপ। একটি স্বল্পমূল্যের ড্রোন বা সাধারণ রকেট ধ্বংস করতে যে ইন্টারসেপ্টর ব্যবহৃত হয়, তার খরচ অনেক বেশি। দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে ইন্টারসেপ্টরের মজুত ও সরবরাহ একটি বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা কাঠামো শতকরা ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ হুমকি ঠেকাতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়। কিন্তু বাকি যে অল্প শতাংশ ভেদ করে আসে, তা-ই বড় ধরনের প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণ হতে পারে। বেইত শেমেশের সাম্প্রতিক ঘটনা সেই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে। হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা, সতর্ক সংকেত প্রোটোকল এবং ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি নিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সমাচার বিশ্ব নিউজ ডেক্স 



















