
প্রথমবারের মতো ইরান ইস্যুতে স্থল সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনাকে সরাসরি নাকচ করেননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে তিনি জানান, মার্কিন সামরিক বাহিনী অন্তত পাঁচ সপ্তাহ ধরে বিমান হামলা চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে। প্রয়োজনে এই অভিযান আরও দীর্ঘায়িত করার সক্ষমতাও যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান সামরিক পদক্ষেপ কেবল তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং কৌশলগতভাবে পরিকল্পিত। তিনি ইঙ্গিত দেন, পরিস্থিতি যদি স্থল অভিযানের দিকে গড়ায়, সেই বিকল্পও সম্পূর্ণভাবে টেবিলের বাইরে নয়। যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা তিনি স্পষ্ট করেননি, তবুও তার মন্তব্যকে অনেকে নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
এদিকে প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বলেন, “আমরা এই যুদ্ধ শুরু করিনি, তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে আমরা এটি শেষ করব।” তার বক্তব্যে পরিষ্কার বার্তা ছিল, যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে পিছিয়ে আসার অবস্থানে নেই। বরং সামরিক ও রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, যদি ইরান ইসরায়েলের ওপর বড় ধরনের হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি আসন্ন হুমকির মুখে পড়বে। তার মতে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আঘাত মানে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থে সরাসরি চ্যালেঞ্জ।
এই তিন শীর্ষ কর্মকর্তার বক্তব্য মিলিয়ে যে বার্তা স্পষ্ট, তা হলো সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ। বিমান হামলা চলবে, প্রয়োজনে স্থল অভিযানও বিবেচনায় আসতে পারে, আর ইসরায়েলের নিরাপত্তা প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে সরাসরি পক্ষ হিসেবে দেখছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সমাচার বিশ্ব নিউজ ডেক্স 



















