
ইরানের ওপর সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র অত্যাধুনিক আকাশ ও সমুদ্রভিত্তিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা। এই অভিযানে মূলত স্টিলথ যুদ্ধবিমান, কৌশলগত বোমারু বিমান এবং দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কথা উঠে এসেছে। লক্ষ্য ছিল ইরানের গভীরে অবস্থিত সামরিক অবকাঠামো ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোতে নির্ভুল আঘাত হানা।
স্টিলথ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ভরসা F-35 লাইটনিং II ও F-22 র্যাপ্টর। এসব বিমান রাডার এড়িয়ে শত্রু আকাশসীমায় প্রবেশ করতে পারে এবং উন্নত সেন্সর ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতার মাধ্যমে লক্ষ্য নির্ধারণ করে। শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যেও নির্ভুল বোমা নিক্ষেপে এগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখে।
এছাড়া কৌশলগত হামলায় ব্যবহৃত হতে পারে বি-২ স্পিরিট বি বা 52 স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেস -এর মতো ভারী বোমারু বিমান। বিশেষ করে B-2 গভীর সুরক্ষিত বাংকার বা কমান্ড সেন্টারের মতো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
সমুদ্রভিত্তিক হামলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে তোমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। এগুলো ডেস্ট্রয়ার বা সাবমেরিন থেকে নিক্ষেপ করা যায় এবং অত্যন্ত নিচু উচ্চতায় উড়ে রাডার এড়িয়ে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছায়। এর ফলে প্রতিবেশী দেশের আকাশসীমা ব্যবহার না করেই ইরানের ভেতরে নির্দিষ্ট স্থাপনায় আঘাত করা সম্ভব হয়।
অভিযানে আরও ব্যবহৃত হয়েছে জিপিএস-নির্ভর নির্ভুল বোমা, যেমন জেড্যাম কিট সংযুক্ত অস্ত্র। এসব ব্যবস্থায় লক্ষ্যবস্তুতে সুনির্দিষ্ট আঘাত হানার পাশাপাশি পার্শ্বক্ষতি কমিয়ে আনা যায়।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার কৌশল ছিল দূরপাল্লার, উচ্চ নির্ভুলতা সম্পন্ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর। এতে স্থল সেনা মোতায়েন ছাড়াই কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে, যদিও এর আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রভাব নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
সমাচার বিশ্ব নিউজ ডেক্স 



















