
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে মঙ্গলবার ভোরে দুটি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী হামলার ফলে ভবনে সামান্য আগুন লাগে এবং কিছু বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতি হয়। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এই হামলা এমন এক সময় ঘটলো, যখন শনিবার থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। সৌদি আরবসহ কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, ওমান, জর্ডান, সিরিয়া ও ইরাক—মোট নয়টি আরব দেশ বিভিন্নভাবে হামলার শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে।
শনিবার সকাল থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবরসহ শতাধিক প্রাণহানির দাবি সামনে এসেছে। এর জবাবে তেহরান ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে এবং একই সঙ্গে আরব দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এসব হামলার কিছুতে হতাহত ও বেসামরিক অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে বন্দর ও আবাসিক ভবনও রয়েছে।
ওমানের মধ্যস্থতাকারীদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি থাকলেও পরিস্থিতি সামরিক মুখোমুখি অবস্থানে পৌঁছেছে। অতীতে ২০১৫ সালের জুনে সংঘাতের সময়ও আলোচনা ভেঙে যাওয়ার নজির রয়েছে।
ওয়াশিংটন ও তেল আবিব তেহরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। তাদের দাবি, এসব কর্মসূচি আঞ্চলিক মিত্রদের জন্য হুমকি। অন্যদিকে ইরান বারবার বলেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না।
সব মিলিয়ে রিয়াদের এই ড্রোন হামলা দেখাচ্ছে যে সংঘাত এখন কেবল ইরান ও ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলই ক্রমশ সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে চলে যাচ্ছে।
সমাচার বিশ্ব নিউজ ডেক্স 



















